সিরিজ নিশ্চিত বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক:

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দাপুটে জয়ের পর তৃতীয় ওয়ানডেতে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বেঞ্চে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে চট্টগ্রামে খেলার কথা জানিয়েছেন তিনি। সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত সদস্য মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন প্রথম দুই ম্যাচে বসে ছিলেন বেঞ্চে। তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ মিঠুন, তাইজুল ইসলাম, আফিফ হোসেনরাও খেলেননি। এবার তাঁদের খেলার পালা।

আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তামিম বলেছেন, ‘তাসকিন, সাইফউদ্দিনের মতো ক্রিকেটাররা একাদশে নেই। দলের মধ্যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব আছে। সবারই খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত। যারা সুযোগ পায়নি তারা সবাই ভালো করার সামর্থ্য রাখে। আমি নিশ্চিত, তৃতীয় ম্যাচে আমরা বেশ কিছু পরিবর্তন করব। আশা করছি যে–ই আসুক, সে–ই যেন ভালো করে।’

দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে নিজের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট মনে হয়েছে তামিমকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেওয়া ১৪৯ রানের সহজ লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাংলাদেশের লাগে ৩৩.২ ওভার, খরচা হয় তিন উইকেট। তামিমের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫০ রান।

প্রথম ম্যাচে ৪৪ রান করে আউট হয়েছিলেন তামিম। সেদিনও ম্যাচ শেষ করে আসার সুযোগ ছিল। আজও তাই। কিন্তু দলের জয় থেকে ৩৯ রান দূরে থাকা অবস্থায় রেমন রেইফারের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরতে হয়ে তাঁকে। তবে উইকেটে সময় কাটানোর উপকারিতা দেখছেন তিনি, ‘উইকেটে সময় কাটাতে পেরেছি। সেটা ভালো হয়েছে আমার জন্য।’




বাংলাদেশকে করোনার টিকা উপহার দেবে চীনা প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ (ট্রায়াল) করতে যাচ্ছে আনুই জিফেই নামের একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। টিকার পরীক্ষার পাশাপাশি তারা যৌথ গবেষণা ও উৎপাদনের কারখানাও স্থাপন করতে চায়। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকায় আসছেন।

দেশে টিকার পরীক্ষা করতে আসা চীনা প্রতিষ্ঠানটি হলো আনুই জিফেই লংকম বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড। বেইজিং থেকে গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুঠোফোনে এক সাংবাদিককে জানান, টিকা পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে যে টিকা উৎপাদিত হবে, তার একাংশ মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে পাবে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের পর চলতি মাসের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) টিকা পরীক্ষার প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে আনুই জিফেইকে চিঠি দেয়।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে আনুই জিফেইয়ের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। এখন তাদের প্রতিনিধিদল এসে কীভাবে কাজ করবে এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ঠিক করবে। আগামী তিন-চার দিনের গবেষণা প্রটোকল (পরীক্ষাবিধি) চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করছি।’

সূত্র: প্রথম আলো।




রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সন্নিকটে!

কূটনৈতিক প্রতিনিধি:

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন। মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে দেশটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ঢাকার চীনা দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে মঙ্গলবারের এ ত্রিপক্ষীয় ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লুও ঝাওহুই ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব হাও দো সোয়ান।

লুও ঝাওহুই বলেন, ২০১৭ সাল থেকে চীন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ করছে। চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে এ সংকট দ্বিপক্ষীয় ভাবেই সমাধানে জোর দিয়ে আসছে। তবে চীনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ সংকট জটিল করার পরিবর্তে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা উচিত।

চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লুও ঝাওহুই অংশ নেন। বৈঠকে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধান ও এ অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।




২৮ শে জানুয়ারি দেশে আসবে করোনা টিকার প্রথম চালান।

দিনবদল ডেস্ক:

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা জন্য ২০ লক্ষ টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সে মোতাবেক ২০ শে জানুয়ারি ভারত সরকার বাংলাদেশকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন প্রদান করবে। সোমবার সন্ধ্যায় বেশ কয়েকজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘প্রেস মিট’ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন যে সেরামের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনিকা ভ্যাকসিনের প্রথম চালান ২৮ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছে যাবে।

মন্ত্রী আরো বলেন এই টিকা ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে দেওয়া হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে । তিনি বলেছিলেন যে চিঠিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা জন্য ২০ লক্ষ টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।




জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র‘যা ছিলো অন্ধকারে’।

শেখ সদয় :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে
ভারচুয়াল সুংযুক্তির মাধ্যমে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করেন।

প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ক্যাটাগরীতে পুরস্কার একটাই। শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। আর ২০১৯ সালের শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র অর্জন করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রযোজিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘যা ছিলো অন্ধকারে’।
শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘যা ছিলো অন্ধকারে’ গবেষণা ও রচনা করেছেন একাধিকবার জাতিয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রাপ্ত নাট্যকার,লেখক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন রশীদ (এস এম হারুন-অর-রশীদ) । চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক প্রযোজক আউয়াল চৌধুরী।

বিচারপতি হামুদুর রহমান কমিশনের অপ্রকাশিত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের ওপর বিশেষ প্রামান্য কাহিনীচিত্র নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘যা ছিলো অন্ধকারে’ অভিনয় করেছেন : মামুনুর রশিদ, নুজাত চৌধুরী, মোঃ বারী, জিয়াউল হাসান কিসলু, শাহ আলম দুলাল, , আজাদ আবুল কালাম, তোফা হাসান, নাদের চৌধুরী, শহিদুল আলম সাচ্চু, আজিজুল হাকিম,আরমান পারভেজ , অনন্ত হিরা , আব্দুল্লা রানা, আহমেদ রুবেল, শামস সুমন,খলিলুর রহমান কাদরি, শতাব্দি ওয়াদুদ, রমিজ রাজু, তাজুদ্দিন তাজু,মাহমুদুল ইসলাম মীঠূ, তারিকুজ্জামান তপন , রওনক বিশাখা শ্যামলী , আরেফিন সামস, আশরাফ কবির ,ফাহমিদা রহমান, ত্রিশা , শফিউল আজম, তমা ইসলামক প্রমুখ। এছাড়াও অংশগ্রহন করেছেন মুন্সিগঞ্জের শতাধিক নাট্যকর্মী।

প্রামাণ্য চলচ্চিত্র‘যা ছিলো অন্ধকারে’ চিত্রগ্রহণে ছিলেন : শোভন বিশ্বাস, সম্পাদনা : বাবু চৌধুরী, শিল্পনির্দেশনা : মীর আহসান, সাবটাইটেল : মঞ্জুরুল আলাম, মোঃ আরিফুল ইসলাম, গ্রাফিক্স : রাজু আহমেদ খান, রূপকার : আব্দুর রহমান, মোঃ ফারুক, সমন্বয় : মেহেদি হাসান বাবু, পোস্টার ও সমন্বয় : আহনাফ চৌধুরী, নেপথ্য কণ্ঠ : আজাদ আবুল কালাম, মাহামুদা আক্তার,ফয়জুল্লাহ সায়িদ, কারিগরী সহায়তা : ইমেজ ভিশন, বিশেষ সহযোগিতা : আলিমুজ্জামান ।




চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে ১ হাজার কোটি টাকা তহবিল গঠনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের দর্শকদের সিনেমাহল মুখী করার মতো কাজ করতে চলচিত্র সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে ১ হাজার কোটি টাকা তহবিল গঠনের ঘোষণাও দেন তিনি।
রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে ২০১৯ সালের জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। চলচ্চিত্রের কলাকুশলীদের জীবনমান উন্নয়নে ‘চলচ্চিত্র কল্যাণ ট্রাষ্ট গঠনের’ কথাও জানান শেখ হাসিনা। বিত্তবান শিল্পীদের এই ট্রাষ্ট্রে অবদান রাখার আহবানও জানান তিনি।

২০১৯ সালে চলচ্চিত্রে অবদানে ২৬টি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেতা মাসুদ পারভেজ-সোহেল রানা ও অভিনেত্রী কোহিনুর আক্তার সুচন্দা। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ‘ন ডরাই’ ও ‘ফাগুন হাওয়ায়’। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক-তানিম রহমান অংশু, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-তারিক আনাম খান, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী-সুনেরাহ বিনতে কামাল।
চলচ্চিত্রের উন্নয়নে এফডিসিকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার স্বার্থে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মূল অংশে সরিয়ে ফেলা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।




সরকারি চাকরিজীবীরা যেভাবে পাবে গৃহঋণ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০১৮ সালে গৃহঋণ সুবিধা চালু করে সরকার। শুরুর দিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এবং বিচারকরা এর বাইরে থাকলেও পরে গৃহঋণ সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গৃহঋণ নীতিমালার আওতায় একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ঋণের বিপরীতে সুদের ওপর সুদ অর্থাত্ চক্রবৃদ্ধি সুদ নেওয়া হবে না। কোনো প্রসেসিং ফি বা আগাম ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না।

ঋণ পরিশোধের মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ২০ বছর। সরকারি তফসিলি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। গৃহনির্মাণ ঋণ নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৬ বছর করা হয়েছে। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। আর ঋণের সুদ হার হবে ৯ শতাংশ।

কারা কত পাবেন

জাতীয় বেতনকাঠামোর পঞ্চম থেকে প্রথম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাওয়া সরকারি কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে বাড়ি তৈরিতে ঋণ পাবেন ৭৫ লাখ টাকা। জেলা সদরে বাড়ি তৈরি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য পাবেন ৬০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০ লাখ টাকা।

নবম থেকে ষষ্ঠ ধাপে বেতন-ভাতা পাওয়া কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদর এলাকার জন্য ৬৫ লাখ টাকা, জেলা সদরে ৫৫ লাখ টাকা ও অন্যান্য এলাকার জন্য ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। দশম থেকে ত্রয়োদশ ধাপের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৫৫ লাখ, জেলা সদরে ৪০ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ ধাপের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৪০ লাখ, জেলা সদরে ৩০ লাখ ও অন্যান্য এলাকার জন্য ২৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। অষ্টাদশ থেকে বিংশতম ধাপের কর্মচারীরা পাবেন ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৩০ লাখ টাকা, জেলা সদরে ২৫ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ২০ লাখ টাকা ঋণ।

গৃহঋণে যত সুবিধা

গৃহঋণের সুদ হার হবে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ঋণগ্রহীতা দেবে ৫ শতাংশ। আর বাকি ৪ শতাংশ সরকার ভতুর্কি দেবে। গৃহনির্মাণ কাজের ওপর ভিত্তি করে মঞ্জুরীকৃত ঋণ সর্বোচ্চ চারটি কিস্তিতে বিতরণ করা হবে। আর রেডি ফ্ল্যাট অথবা জমিসহ তৈরি বাড়ির কেনার ক্ষেত্রে সব ঋণ এক কিস্তিতে দেওয়া যাবে। অনিবার্য কারণবশত মাসিক কিস্তি পরিশোধে দেরি হলে ওই দেরির জন্য আরোপযোগ্য সুদ শেষ কিস্তির সঙ্গে যুক্ত হবে। এ ছাড়া গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রে প্রথম কিস্তির ঋণের অর্থ প্রাপ্তির সর্বোচ্চ এক বছর পর এবং ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ প্রাপ্তির সর্বোচ্চ ছয় মাস পর ঋণগ্রহীতার মাসিক ঋণ আরম্ভ হবে। এ ছাড়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের উপায় হিসেবে বাসা ভাড়াকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

ঋণ পেতে যা যা লাগবে

ঋণ পাওয়ার জন্য প্রাইভেট প্লটের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে বিভিন্ন দলিল জমা দিতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমির মূল মালিকানা দলিল; এসএ/আরএস রেকর্ডীয় মালিক থেকে মালিকানা স্বত্বের প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক দলিল; সিএস, এসএ, আরএস, বিএস এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিটি জরিপ খতিয়ান জাবেদা নকল; জেলা/সাবরেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃক ইস্যু করা ১২ বছরের নির্দায় সনদ (এনইসি)। আর ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে জমা দিতে হবে রেজিস্ট্রি করা বায়নাচুক্তি এবং ফ্ল্যাটের মালিকানা দলিল (বন্ধক দেওয়ার আগে)।

সরকারি/লিজ প্লটের জন্য ঋণ আবেদনের সঙ্গে প্লট বরাদ্দপত্রের ফটোকপি, দখল হস্তান্তরপত্রের ফটোকপি, মূল লিজের দলিল ও বায়না দলিলের ফটোকপি, ফ্ল্যাট ক্রয়ের রেজিস্ট্রি করা বায়নাচুক্তি, ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র এবং ফ্ল্যাটের মালিকানা দলিল (বন্ধক দেওয়ার আগে)।

এ ছাড়া উভয় ক্ষেত্রে ঋণ আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে নামজারি খতিয়ানের জাবেদা নকল, হাল সনের খাজনা রসিদ, জমির মালিক কর্তৃক ডেভেলপারের দেওয়া রেজিস্ট্রি করা আমমোক্তারনামা দলিল, জমির মালিক এবং ডেভেলপারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি করা ফ্ল্যাট বণ্টনের চুক্তিপত্র, অনুমোদিত নকশার ফটোকপি, ফ্ল্যাটের মাটি পরীক্ষার রিপোর্টের ফটোকপি, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত ছকে ইমারতের কাঠামো নকশার ফটোকপি ও ভারবহন সনদ, ডেভেলপার কম্পানির সঙ্ঘস্মারক, সঙ্ঘবিধি ও রিহ্যাবের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি, ডিজাইন মোতাবেক কাজ করার ব্যাপারে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া আন্ডারটেকিং, অন্য কোনো ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নেই মর্মে ডেভেলপারের দেওয়া স্ট্যাম্প পেপারে ঘোষণাপত্র, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, বেতনের সনদপত্র, সত্যায়িত ছবি ও সই। ঋণ নেওয়ার জন্য সরকারের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান মনোনীত করার আগে অর্থ বিভাগের গৃহঋণ সেলের অনুমতি নিতে হবে।

যাঁরা ঋণ পাবেন না

কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু এবং দুর্নীতি মামলার ক্ষেত্রে চার্জশিট দাখিল হলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঋণ গ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত কোনো কর্মচারী ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

কেমন সাড়া পেল গৃহঋণ কার্যক্রম

গৃহঋণে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত মাত্র ৩০০ সরকারি চাকুরে গৃহনির্মাণ ঋণের সুবিধা নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আবেদন এবং ঋণ পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারপরই আছেন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাঁদের বেশির ভাগই আবার সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকার জন্য আবেদন করেছেন। বাকি যাঁরা আবেদন করেছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে ৬৫ লাখ টাকার জন্য। আবার ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তারা যতটা এগিয়ে, ঠিক ততটাই পিছিয়ে আছেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা। তবে কিছুসংখ্যক নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ঋণের জন্য আবদেন করেছেন। আর গৃহনির্মাণ ঋণের জন্য আবেদনের সংখ্যা যত তার থেকেও ঢের বেশি বাদ পড়ার সংখ্যা। ভুলভাবে আবেদন করার খেসারত হিসেবে বাদ দেওয়া হচ্ছে অনেক কর্মকর্তার আবেদন।

এ খাতে সরকারের খরচ কত হবে

অর্থ বিভাগের হিসাব বলছে, ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর গৃহনির্মাণ ঋণের সুবিধা দেওয়ার কারণে এ খাতে এক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন পড়বে। পাশাপাশি প্রায় দেড় হাজার বিচারক এর আওতায় আছেন। এবার নতুন করে যোগ হচ্ছেন ১৪ হাজার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ফলে ভর্তুকির অঙ্কটা দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।




টিকা পেতে ২৬ জানুয়ারি থেকে নিবন্ধন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

জানুয়ারির ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে দেশে করোনাভাইরাসের টিকা আসবে। আর এই টিকা দেওয়া শুরু হবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এ জন্য নিবন্ধন শুরু হবে ২৬ জানুয়ারি থেকে।

আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

সরকারের করোনা টিকাবিষয়ক পরিকল্পনা বিস্তারিত জানাতে আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও করোনার টিকা নিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন।

গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর বিসিপিএস ভবনে হাম-রুবেলার টিকা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আগামী মাসের (জানুয়ারি) প্রথম ভাগে দেশে করোনার টিকা আসবে।




২৪ ঘন্টায় মৃত্যু আরও ২২ জনের ,শনাক্ত ৮৪৯ জন

বিশেষ প্রতিনিধি:

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মৃত্যু হয়েছে আরও ২২ জনের। একই সময় নতুন করে আরও ৮৪৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩০২ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ৮০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৮ জন।

আজ ১১ জানুয়ারি সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৪ হাজার ৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয় (অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষাসহ)। পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমেই মহামারি আকারে সংক্রমণ বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানায় সরকার।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, টিকা না আসা পর্যন্ত সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল উপায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। বিশেষ করে বাইরে বের হলে মুখে মাস্ক পরা শতভাগ নিশ্চিত করা, কিছু সময় পরপর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার বিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।




করোনায় শনাক্ত আরও ৬৯২ জনের, মৃত্যু ২২

বিশেষ প্রতিনিধি:

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ হাজার ৭৫৬ জনে।

আজ ৯ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮১টি ল্যাবরেটরিতে ১২ হাজার ৫২৩টি নমুনা সংগ্রহ ও ১২ হাজার ৯০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৯টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৯২ জন। দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৩৮২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক শূন্য ৩৯ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।