গোলার বদলে গোলা,ইসরায়েলকে দাঁতভাঙা জবাব দিচ্ছে হামাস!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

এবার গোলার বদলে গোলা ছুড়ে ইসরায়েলকে দাঁতভাঙা জবাব দিচ্ছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। তাদের রকেটবৃষ্টি থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে ইসরায়েলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে ইসরায়েলিদের বহু স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ফিলিস্তিনি রকেট। কিন্তু ইসরায়েল বারবার দাবি করছে, এসব হামলায় নাকি তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ইসরায়েলিরা কি তবে সত্যটা গোপন করছে?

পবিত্র রমজান মাসের শেষের দিকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক দমন অভিযান চালায় দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। এর প্রতিবাদে গত সোমবার পর্যন্ত তেল আবিবকে সতর্কতামূলক সময়সীমা বেধে দিয়েছিল ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনটির বেধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে দমন অভিযান বন্ধ না হওয়ায় গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এ যাবৎকালের সবচেয়ে জোরালো রকেট হামলা চালায় ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত নয়জন নিহত হয়েছেন। হামলা অব্যাহত রয়েছে শনিবারও।

ইসরায়েলের আশদুদ শহরের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা কান নিউজকে জানিয়েছেন, শনিবার সকালে হামাস একঝাঁক রকেট ছুড়েছে। এতে শহরটির একটি ছয়তলা আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কেউ হতাহত হননি বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।

জেরুজালেম পোস্টের খবর অনুসারে, এর কিছুক্ষণ পরেই আশদুদে আঘাত হানে আরও দুটি রকেট। এর মধ্যে একটি রকেটের আঘাতে বন্দরের একটি কারখানায় আগুন ধরে যায়। তবে এসময়ও কেউ হতাহত হননি বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকালে বীরশেবা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে রকেট হামলা হয়েছে। এতে ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হলেও কেউ আহত হননি।

হামাসের ছোড়া আরও দুটি রকেট গাজা সীমান্তবর্তী কয়েকটি বাড়িতে আঘাত হেনেছে। এর মধ্য একটি রকেট সরাসরি একটি বাড়ির ওপর পড়ায় সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের আরও দুটি বাড়ি।

আরেকটি রকেট আছড়ে পড়েছে ইসরায়েলের সাদেরত শহরে। এসব ঘটনায় একজনও হতাহত হননি বলে দাবি করছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দেয়া তথ্যমতে, গত কয়েকদিনে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায় দুই হাজার রকেট হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

গত বৃহস্পতিবার থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরে আক্রমণের সংখ্যা বাড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীও। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতেই গাজায় মাত্র ৪০ মিনিটে ৪৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে দখলদাররা।

তাদের হামলায় গত সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ৩৬ শিশুসহ অন্তত ১৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার।

হানাদারদের আক্রমণের মুখে প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনি ঘরছাড়া হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এছাড়া ইসরায়েল বোমা মেরে উপত্যকার ৩১টি স্কুলকে ধ্বংসস্তূপ বানিয়েছে বলে জানিয়েছে শিশু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন।




দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন দিলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

করোনা মোকাবিলায় দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকার একে ‘কড়া বিধিনিষেধ’ বলে জানিয়েছেন। ১৬ মে রোববার, সকাল ৬টা থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত এই লকডাউন কার্যকর হবে। ১৫ মে শনিবার, দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এই লকডাউন ঘোষণা করেন।

মুখ্যসচিব জানান, রোববার সকাল ৬ টা থেকে ৩০ মে পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠান (জরুরি পরিষেবা ব্যতীত), বিনোদনকেন্দ্র, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, সুইমিংপুল, বিউটি পার্লার বন্ধ থাকবে। তবে সবজি-ফল-মুদিখানা-দুধ ও মাংসের দোকান সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মিষ্টির দোকান সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

লকডাউনে লোকাল ট্রেন, মেট্রো, বাস, লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে পার্ক, চিড়িয়াখানাও। রাজ্যে খাদ্যসামগ্রীর ট্রাক ছাড়া অন্যান্য ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাইরে বের হওয়া যাবে না। বিয়েবাড়িতে ৫০ জনের বেশি জনসামগম করা যাবে না। ব্যাংক ও এটিএম সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চালু থাকবে। চালু থাকবে হোম ডেলিভারি ও ই-কমার্স।

শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকবে লকডাউনে। তবে চা-বাগানে প্রতি সিফটে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে এবং জুট মিলে প্রতি সিফটে ৩০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চলবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

করোনা মোকাবিলায় দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকার একে ‘কড়া বিধিনিষেধ’ বলে জানিয়েছেন। ১৬ মে রোববার, সকাল ৬টা থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত এই লকডাউন কার্যকর হবে। ১৫ মে শনিবার, দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এই লকডাউন ঘোষণা করেন।

মুখ্যসচিব জানান, রোববার সকাল ৬ টা থেকে ৩০ মে পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠান (জরুরি পরিষেবা ব্যতীত), বিনোদনকেন্দ্র, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, সুইমিংপুল, বিউটি পার্লার বন্ধ থাকবে। তবে সবজি-ফল-মুদিখানা-দুধ ও মাংসের দোকান সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মিষ্টির দোকান সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

লকডাউনে লোকাল ট্রেন, মেট্রো, বাস, লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে পার্ক, চিড়িয়াখানাও। রাজ্যে খাদ্যসামগ্রীর ট্রাক ছাড়া অন্যান্য ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাইরে বের হওয়া যাবে না। বিয়েবাড়িতে ৫০ জনের বেশি জনসামগম করা যাবে না। ব্যাংক ও এটিএম সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চালু থাকবে। চালু থাকবে হোম ডেলিভারি ও ই-কমার্স।

শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকবে লকডাউনে। তবে চা-বাগানে প্রতি সিফটে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে এবং জুট মিলে প্রতি সিফটে ৩০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চলবে।




মুসলিম সম্প্রদায়কে ঈদের শুভেচ্ছা জো বাইডেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

১৪ মে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ঈদ মোবারক লেখা একটি ছবি পোস্ট করেন।

ক্যাপশনে তিনি লিখেন, ‘পবিত্র রমজান মাস শেষ হয়েছে। জিল ও আমি ঈদ উদযাপনকারীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনারা সারা বছর ভালো থাকবেন। ঈদ মোবারক।’

বৃহস্পতিবার (১৩ মি) সৌদি আরব, ইরান, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর উদযাপন হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও এদিন ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি পরিচালিত মসজিদ, মসজিদ সংলগ্ন মাঠ, পার্কের মাঠ ও গির্জার মিলনায়তনে ঈদের জামাত হয়। এতে অংশ নেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।




চিন্তা-চেতনা-মননে আমরা একে অপরের অত্যন্ত আপন:শেখ হাসিনাকে মমতা

ফিরোজ শাহী:

টানা তৃতীয় বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় মমতা ব্যানার্জিকে অভিনন্দন পত্র পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে মমতা ব্যানার্জিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চিঠি পাঠিয়েছেন।

৬ মে বৃহস্পতিবার, পাঠানো চিঠিতে শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আপনার শুভেচ্ছাবার্তা পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, আপ্লুত। আপনাকে জানাই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। এই জয় বাংলার মা-মাটি-মানুষের জয়। উন্নয়নের জয়। আর সর্বোপরি, একতা, শান্তি, সম্প্রীতি, সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং সৌভ্রাতৃত্বের জয়।’

মমতা ব্যানার্জি লেখেন, ‘গত ১০ বছরে অনেক কাজ আমরা করেছি। আগামী দিনেও আরও অনেক কাজ আমরা করবো। বাংলার মানুষ যে ভরসা আজ আমাদের ওপর রাখলেন, আমরা তার যোগ্য সম্মান দেব। বাংলাকে সাফল্যের নতুন শিখরে পৌঁছে দেবো– এই আমাদের অঙ্গীকার।’

তিনি আশা করেন, ‘দুই বাংলার মধ্যে ভৌগলিক সীমারেখা থাকলেও চিন্তা-চেতনা-মননে আমরা একে অপরের অত্যন্ত আপন। এই ভালোবাসার বন্ধন আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে, এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে চিঠিতে মমতা ব্যানার্জি আরও লেখেন, ‘আপনাকে, রেহানাকে ও সমগ্র বাংলাদেশবাসীকে আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে শুভেচ্ছা জানালাম। আপনাদের শুভকামনাই হবে আমাদের চলার পথের পাথেয়। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।’




তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মমতা

বরুয়া সুরজিত সিমন:

তৃতীয়বারের মতো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মমতা ব্যানার্জী। ৫মে বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে শপথ নেন তিনি।

এর আগে শপথবাক্য পড়ানোর মূল মঞ্চে এসে পৌঁছান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাকে স্বাগত জানান সেখানে উপস্থিত অতিথিরা। শপথ নেওয়ার আগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক অতিথির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মমতাকে। তবে ২০১১ ও ২০১৬ সালের মতো এবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কোনো বৃহৎ আয়োজন থাকছে না।

মমতার প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম। রাজভবনের ময়দানে বিরাট মঞ্চ তৈরি করে বৃহৎ জনসমাগমের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান হয়েছিল।

দ্বিতীয়বার মমতার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছিল রেড রোডে। সেবার ভারতের বিজেপিবিরোধী সব নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে এবার সব পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এবার দুর্দান্ত জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে ২৯২ আসনের মধ্যে ২১৩টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। বিজেপি জয় পেয়েছে ৭৭টিতে।

তবে দল জয় পেলেও নিজ আসন নন্দীগ্রামে ধাক্কা খেয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। এরপর অনেকের প্রশ্ন জাগে, ভোটে হারার পর মমতার ভাগ্য তাহলে কী হবে? তিনি কি টানা তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন?

সংবিধানে যাই থাকুক না কেন, এর আগেও কিন্তু পরাজিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসার নজির রয়েছে ভারতে। আবার ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪ (৪) নং ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়। তবে মসনদে বসার ছয় মাসের মধ্যে তাকে অন্য কোনো আসন থেকে জিতে আসতে হবে।

২০১১ সালের মতো এবারও মুখ্যমন্ত্রী বিধায়ক না হয়েও শপথ নিলেন। কারণ, নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন মমতা। যদিও, সেই ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।

ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবার আদালতে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে দিয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। ২০১১ সালে সরকার ক্ষমতায় এলে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে সাংবিধানিক নিয়মরক্ষা করেন মমতা।

২০১৬ সালে অবশ্য সাধারণ নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ভবানীপুর থেকে জিতে দ্বিতীয়বারের জন্য বিধায়ক হয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন। কিন্তু, এবার নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়েও তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তিনি।




মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে মমতার পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেছে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূণ কংগ্রেস। এই জয়ের মধ্যদিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব নেবেন মমতা। তার আগে ছেড়ে দিলেন দ্বিতীয় মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রীর পদ। সোমবার (৩ মে) সন্ধ্যায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার (৫ মে) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন মমতা ব্যানার্জী। আর এই শপথগ্রহণের দিন ঠিক হওয়ার পর সোমবার রাজভবনে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা বৈঠক করেন মমতা ব্যানার্জী। এরপর তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1389231826657366020?s=20

তবে নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জীকেই রাজ্যের দায়িত্ব পালনের জন্য বলেন রাজ্যপাল। পরে রাজ্যপাল টুইট বার্তায় জানান, ‘বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় মমতা ব্যানার্জী রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। তবে করোনার কারণে এবার শপথ অনুষ্ঠানে জনসমাগম হবে না।’

এর আগে ভোটের ফল প্রকাশের দিন মমতা ব্যানার্জী জানিয়েছিলেন, দলের সঙ্গে আলোচনা করে শপথ গ্রহণের দিন ঠিক করবেন। সোমবার তৃণমূল ভবনে নির্বাচিত দলীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তিনি। এরপরই দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৫ মে তৃতীয়বারের জন্য শপথ নেবেন তিনি। পরে বিধায়কদের স্বাক্ষর করা চিঠি নিয়ে রাজভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রথা অনুযায়ী রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানান এবং মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন।




বিজয় উৎসব নয় করোনা মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে: মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জয়ের পরই আজ সোমবার (৩ মে) জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মমতা ব্যানার্জি। বেলা ৩টায় তৃণমূল ভবনে সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন মমতা। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি সবার সঙ্গে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে কথা বলতে পারেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মমতা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন রাজভবনে। রোববার এক টুইটের মাধ্যমে রাজ্যপাল ধনকড় মমতা ব্যানার্জিকে আমন্ত্রণের কথা জানিয়েছিলেন।

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1388868045121101826?s=20

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯২ আসনের মধ্যে ২১৩টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। এছাড়া প্রার্থী শূন্যতার কারণে এখনও বাকি দুই আসনের নির্বাচন। জয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পর সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার ছক সাজিয়ে ফেলেছিলেন মমতা এমন খবর দিয়েছে কলকাতার কিছু গণমাধ্যম। আগের দুইবারের মত এবারও মমতার মন্ত্রিসভায় গুরুত্ব পেতে পারেন বিদায়ী মন্ত্রীরা। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসদের পাশাপাশি নতুন ক্যাবিনেটে জয়ী তারকা প্রার্থীরাও গুরুত্ব পেতে পারে বলে জানা গেছে।

রোববার সন্ধ্যায় জয়ের পর সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফিংয়ে মমতা জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে বিজয় উৎসব কিংবা অন্য কোনো উদযাপন নয়। করোনা মোকাবিলায় সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সেটাই হবে অগ্রাধিকার। এমনকি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ কবে সেব্যাপারেও কোনো কিছু স্থির করেননি তিনি।

এ ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন, দলের সঙ্গে আলোচনা করে তা ঠিক করা হবে। তবে রাজভবনে শপথ নেবেন, তার ইঙ্গিত ছিল। রোববার তৃণমূলের বড় জয়ের পর রাজ্যপাল তাই দলনেত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাজভবনে। আজ সেই আমন্ত্রণে সন্ধ্যা ৭টায় সেখানে যাবেন মমতা ব্যানার্জি। তবে তার আগে জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বসে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক বৈঠকের আহ্বান করেছেন তিনি।




নন্দীগ্রামে ১ হাজার ৬২২ ভোটে আমি জিতেছি: শুভেন্দু অধিকারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রামের ভোট নিয়ে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। ১৭ রাউন্ড ভোট গণনার পর খবর আসে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি জয়ী হয়েছেন। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই মমতার জয় নিয়ে বিভ্রান্তি শুরু হয়। সার্ভারে সমস্যার কারণে সঠিকভাবে কিছু জানাও যাচ্ছে না। তারপরই খবর আসে, নন্দীগ্রামে ১ হাজার ৬২২ ভোটে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হয়েছেন।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফলাফলের বিষয়ে শুভেন্দু জানিয়েছেন, ‘১ হাজার ৬২২ ভোটে আমি জিতেছি।’

যদিও পোস্টাল ব্যালট ছাড়া মমতার সঙ্গে শুভেন্দুর জয়ের ব্যবধান ৯ হাজার ৭৮৭ ভোটের। তারপরও সংবাদ সম্মেলনে নন্দীগ্রামে হেরে গেছেন জানিয়ে মমতা বলেছেন, ‘নন্দীগ্রাম যা রায় দেবে, মাথা পেতে নেব।’

এদিকে নিজে হারলেও দলের জয়ের জন্য বাংলার মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বাংলার জয়ের জন্য সকলকে অভিনন্দন। বাংলার জয়, মানুষের জয়।’

সেই সঙ্গে ফলাফল নিয়ে এই বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন মমতা। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে, রায় ঘোষণার পর কারচুপি হয়েছে।’

এর আগে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছিল, ১ হাজার ২০২ ভোটে নন্দীগ্রামে মমতা জয়ী হয়েছেন। সার্ভারের ত্রুটির কারণে দুপুরে এমনিতেই ৪০ মিনিট ভোট গণনা বন্ধ ছিল। তারপর মমতার জয়ের খবর সামনে আসার পরও কোন তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন। এর পরই জানা যায়, বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু জয়ী হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সারাদিন ধরে অনিশ্চয়তা ছিল, জয়টা তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া শুভেন্দু পাবেন নাকি দলনেত্রী মমতা। একবার শুভেন্দু এগিয়ে যাচ্ছিলেন, পরক্ষণই আবার খবর আসছিল মমতার এগিয়ে যাচ্ছেন।

গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। তারপর তিনি লাগাতার মমতা ও তার ভাইয়ের ছেলে অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যান। সেই তুলনায় তৃণমূল অনেকটাই স্তিমিত ছিল। তবে অধিকারীদের সঙ্গে সম্পর্কের শেষ পেরেক পোতেন মমতাই। নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, সেখান থেকেই ভোটে লড়বেন তিনি।

তারপরই নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে রাজনীতির যাবতীয় সমীকরণ উল্টে যায়। ১০ মাস আনুষ্ঠানিক ভাবে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন মমতা। ওই দিনই তিনি নন্দীগ্রামে আক্রান্ত হন। আঘাত পান পায়ে। তা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে ঝগড়া চরমে ওঠে।




নন্দীগ্রামেও জয় পেলেন মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অবশেষে নন্দীগ্রামেও জয় পেলেন মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সারাদিন ধরে অনিশ্চয়তা ছিল জয়টা তৃণমূল ছেঁড়ে যাওয়া শুভেন্দু পাবেন নাকি দলনেত্রী মমতা। একবার শুভেন্দু এগিয়ে যাচ্ছিলেন, পরক্ষণেই আবার মমতার এগিয়ে যাওয়ার খবর আসছিল। অবশেষে ভোট গণনার পর জানা গেল, ১২০১ ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীকে পরাজিত করেছেন মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়।

গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। তারপর লাগাতার মমতা ও তার ভাইয়ের ছেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যান তিনি। সেই তুলনায় তৃণমূল অনেকটাই স্তিমিত ছিল। তবে অধিকারীদের সঙ্গে সম্পর্কের শেষ পেরেক পোতেন মমতাই। নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, সেখান থেকেই ভোটে লড়বেন তিনি।

তারপরই নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে রাজনীতির যাবতীয় সমীকরণ উল্টে যায়। ১০ মাস আনুষ্ঠানিক ভাবে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন মমতা। ওই দিনই নন্দীগ্রামে আক্রান্ত হন মমতা। পায়ে আঘাত পান। তা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে ঝগড়া চরমে ওঠে।

এর দু’দিন পর, ১২ মার্চ নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপির হয়ে মনোনয়ন জমা দেন শুভেন্দু। তারপর থেকে বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা শুভেন্দুর হয়ে সেখানে সভা করে এসেছেন। সেই তুলনায় নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সভা ছিল মমতাসর্বস্বই। তবে সেখানে জেতা নিয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মমতা। এমনকি ১ এপ্রিল নন্দীগ্রামে যে দিন ভোটগ্রহণ, সেদিন সেখানে থাকলেও, শুভেন্দুর মতো সকাল থেকে বুথে বুথে ঘুরতে দেখা যায়নি তাঁকে। শুধু দুপুরে বয়াল এলাকায় ঝামেলার খবর পেয়ে প্রথম বাইরে বের হন মমতা। বিজেপি ভোট লুট করছে বলে তাকে জানান গ্রামবাসীরা।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুই ঘণ্টা বুথের ভেতর বসেছিলেন মমতা। সেই সময় তাকে তাচ্ছিল্য করে শুভেন্দু বলেন, ‘খেলা তো হয়ে গিয়েছে। ৮০ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে। এখন আর কী করবেন।’ কিন্তু নন্দীগ্রামে ভোটের খেলায় মমতার কাছেই শেষমেশ গোল খেতে হল তাকে।

সূত্র : আনন্দবাজার




আজ মহান মে দিবস,মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

ফিরোজ শাহী :

আজ ১মে, মহান মে দিবস। মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম আর অধিকার আদায়ের প্রতীকী দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এতে অনেক শ্রমিক আহত ও নিহত হন । শ্রমিকদের এই আত্মদানের ফলেই দৈনিক কাজের সময় আট ঘণ্টা করার দাবিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখন থেকেই দিনটি মে দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির দিবসটি পালন করবে। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সকাল সাতটায় রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড় থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হবে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিকেল তিনটায় দিবসটি উপলক্ষে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ মাঠে শ্রমিক লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনাসহ আলাদা আলাদা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।