ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, আলোচনায় বসতে সম্মত পুতিন

ঢাকা

বুধবার

২১ অক্টোবর ২০২৬ ইং

৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে সম্মতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী নভেম্বর থেকে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

 

বুধবার (২১ অক্টোবর) রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের পর এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি রাজপ্রাসাদে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাঁদের আলোচনা চলে।

 

আবুধাবিতে হতে পারে শান্তি আলোচনা

 

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা কারিগরি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর অথবা এর পর যেকোনো সময় আলোচনা শুরু হতে পারে।

 

যুদ্ধের অবসান ঘটলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।

 

বৈঠকে মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিল রাশিয়া

 

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন স্কুলশিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেয় রাশিয়া। তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।

 

উইটকফের সঙ্গে পুতিনের এটি ছিল নবম সরাসরি বৈঠক। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে উদ্বেগ

 

ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে আসছে কি না, তা নিয়ে কিয়েভ ও দেশটির মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। রাশিয়ার হামলা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে ওয়াশিংটন কখনো কখনো বিধিনিষেধ আরোপ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ও ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসলোতে বৈঠক করেন উইটকফ। ওই আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে পুতিনকে জানিয়েছেন তিনি। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন সেখানে নতুন কিছু ধারণা ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

 

শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

 

ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, উইটকফের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে আলোচিত কিছু বিষয় রাশিয়াকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্প ইউক্রেনকে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য থাকায় নতুন আলোচনা কতটা সফল হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

 

তারারদেশ নিউজ




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন, চীন-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে ভারত

ঢাকা

মঙ্গলবার

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই চীন, রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি। ফলে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

তবে সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতাকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে চীন-রাশিয়ার দিকে ভারতের ঝুঁকে পড়া হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং বিভিন্ন শক্তিধর দেশের সঙ্গে একযোগে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার নীতিই অনুসরণ করছে ভারত—এমন চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেন দূরত্ব বাড়ছে

 

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি প্রকাশের পর ভারতে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের সম্পর্কেও চাপ তৈরি হয়েছে।

 

ভারত অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবিও নয়াদিল্লি স্বীকার করেনি। এসব বিষয় মোদী-ট্রাম্প সম্পর্কে অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের চেষ্টা

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু, বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ এবং শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

 

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে সীমান্ত বিরোধের ন্যায্য ও উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে কাজ করার কথা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

 

রাশিয়ার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা

 

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অবশ্য দীর্ঘদিনের। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা চাপের মধ্যেও রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনেছে ভারত। ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

ব্রিকস সম্মেলনেও মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে যোগাযোগ ছিল উল্লেখযোগ্য। পুতিন ব্রিকসকে আরও ন্যায্য বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছেন।

 

ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখেছে নয়াদিল্লি। ব্রিকস বিজনেস ফোরামে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ছবি আলোচনায় আসে।

 

একদিকে ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ধরে রাখা—ভারতের এই অবস্থান দেশটির বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব’-এর পক্ষে মোদী

 

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে মোদী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যবস্থায় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর শুধু সদস্য হিসেবে উপস্থিতি নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণেও কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

 

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এতে ভারতের বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

 

তাহলে কি ট্রাম্পকে ছেড়ে দিচ্ছেন মোদী?

 

চীন, রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা দেখে এমন প্রশ্ন উঠলেও এখনই ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে চীন-রাশিয়ার শিবিরে যোগ দিচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

 

বরং নয়াদিল্লি একই সঙ্গে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে বিভাজন বাড়ার মধ্যে ভারতের এই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

তারারদেশ নিউজ




মক্কা-জেদ্দায় হামলার আশঙ্কায় সাময়িক সতর্কতা

ঢাকা

মঙ্গলবার

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  | তারারদেশ নিউজ:

 

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা এবং জেদ্দা ও তাইফ গভর্নরেটে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় স্বল্প সময়ের জন্য সতর্কতা জারি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এ সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

 

মক্কায় প্রথমবারের মতো সতর্কতা

 

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলার আশঙ্কার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম মক্কায় এমন সতর্কতা জারি করা হলো।

 

তবে মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে ঠিক কী ধরনের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি সিভিল ডিফেন্স। অল্প সময়ের মধ্যেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

 

আগের দিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

 

এর একদিন আগে ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক হামলা ও সম্ভাব্য হুমকির পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

 

তারারদেশ নিউজ




ব্রিকসে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার চীন-রাশিয়া-ভারতের

ঢাকা

রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

নয়াদিল্লিতে দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন শেষ হয়েছে। রোববার সম্মেলনের শেষ দিনে চীন, রাশিয়া, ভারতসহ জোটের সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

 

সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির আহ্বান মোদীর

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জোটটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সদস্য দেশগুলোর বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা।

 

মোদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি এই জোটের সঙ্গে সম্পর্কিত।

 

বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে পুতিন

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ব্রিকস একটি নতুন ও তুলনামূলকভাবে ন্যায্য বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।

 

অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিয়ম ও শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। নিয়মহীন বিশ্বকে তিনি ট্রাফিক সিগন্যালবিহীন একটি মোড়ের সঙ্গে তুলনা করেন।

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে যৌথ উদ্বেগ

 

সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর আগে মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঘিরে সংঘাতের বিষয়ে মতৈক্য হয়নি।

 

তবে ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর এবারের সম্মেলনে নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি দিতে সক্ষম হন। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে ভারসাম্যের চেষ্টা ভারতের

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করছে ভারত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত রাশিয়ার দিকেও ঝুঁকছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

 

এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সদস্য দেশগুলোর ভূমিকা আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

 

তারারদেশ নিউজ




রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতায় বদলাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ

ঢাকা

শনিবার

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

বিশ্ব রাজনীতিতে একক আধিপত্যের পরিবর্তে ধীরে ধীরে বহুমেরু শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং রাশিয়া-চীনের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার মধ্যে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

 

রাশিয়া-চীনের সম্পর্ক আরও গভীর

 

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বাড়িয়েছে। একই সময়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও মস্কোর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

 

রাশিয়া, চীন ও ইরানের পারস্পরিক সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করছে।

 

ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

 

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়া, চীন ও ইরানের পাশাপাশি ভারতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রাখার কৌশল অনুসরণ করছে দিল্লি।

 

রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা, মার্কিন শুল্কনীতি এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে ওয়াশিংটনের ভূমিকা ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে।

 

ব্রিকসে বিকল্প বিশ্বব্যবস্থার আলোচনা

 

ব্রিকস সম্মেলনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি উঠে এসেছে।

 

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় বিকল্প তৈরির বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। তবে ব্রিকসকে সরাসরি পশ্চিমবিরোধী সামরিক বা রাজনৈতিক জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

চাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর

 

রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতা, ইরানের সঙ্গে সংঘাত, ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একাধিক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি, সামরিক শক্তি ও বিস্তৃত মিত্রজোটের অধিকারী। ফলে বিশ্ব নেতৃত্বে তার প্রভাব দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

 

সামনে বহুমেরু বিশ্বের সম্ভাবনা

 

রাশিয়া-চীনের ঘনিষ্ঠতা, ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা এবং ভারতের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার নীতি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন শক্তিকেন্দ্রের উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনীতি, বাণিজ্য ও মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিন্যাস করতে হতে পারে।

 

তারারদেশ নিউজ




সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন সংকট, লোহিত সাগরে হুথিদের অগ্রযাত্রা

ঢাকা

শুক্রবার

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর লোহিত সাগরের উপকূল ধরে কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপের দিকে এগিয়েছে হুথিরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

মোখা দখলের পর দ্বীপের দিকে অগ্রসর

 

১০ সেপ্টেম্বর মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর হুথি বাহিনী ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়েছে। ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রের দাবি, তারা কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও পৌঁছেছে।

 

বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে এই নৌপথে হুথিদের প্রভাব বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

সৌদি তেল রপ্তানিতে বাড়ছে উদ্বেগ

 

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের নৌপথের গুরুত্ব বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বাব আল-মান্দেব দিয়ে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেড়েছে।

 

এই প্রণালিতে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে সৌদি তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

সৌদি জাহাজে অবরোধের হুমকি

 

হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরে অন্যান্য জাহাজের চলাচল নিরাপদ থাকবে। তবে সৌদি আরবের জাহাজ এ নিরাপত্তার আওতায় থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।

 

এর আগে জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল হুথিরা। চলতি মাসে হামলার মাত্রাও বাড়িয়েছে তারা।

 

তেলের বাজারেও প্রভাব

 

হুথিদের অগ্রযাত্রার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দামও গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে বলে গ্যাসবাডির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সামনে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা

 

ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। মোখা ও আশপাশের এলাকায় হুথিদের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

 

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে হুথিদের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ থাকলেও এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তেহরান হুথিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।

 

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরও সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়ায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

 

তারারদেশ নিউজ




মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ‘নিবিড় নজরদারিতে’ ভারত

ঢাকা

শুক্রবার

২৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে গভীর নজরদারির কথা জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, বিশেষ করে ভারতের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় হলে নয়াদিল্লি তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

 

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান

 

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

এরপর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও চুক্তিটিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চুক্তিটি যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

 

তবে বাংলাদেশ এখনই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নির্ভর করবে চুক্তির বর্তমান সদস্যদেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তারা বাংলাদেশকে সদস্য হিসেবে নিতে চাইলে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

 

ভারতের কড়া নজর

 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, নয়াদিল্লি সব ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।

 

তিনি বিশেষভাবে ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

ভারতের এই বক্তব্যের ফলে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে দিল্লির কৌশলগত উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

 

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়েও প্রশ্ন

 

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। সম্প্রতি দুটি পরিবারের ওপর হামলা ও পরিবারের সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা জানতে চান এক সাংবাদিক।

 

জবাবে জয়সোয়াল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব তাদের পালন করা উচিত।

 

মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অবস্থান এবং ভারতের নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ—দুই বিষয়ই এখন ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

তারারদেশ নিউজ




হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ কোথায়?

ঢাকা

মঙ্গলবার

২৫ আগস্ট ২০২৬

১০ ভাদ্র ১৪৩৩

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ চলছিল। এর মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

 

৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের পতন ও গণঅভ্যুত্থানের সমালোচনা করেন। ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তাঁর এমন বক্তব্যে ঢাকার পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

 

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ঢাকার আপত্তি

 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনা যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য বা উসকানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না পান।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারতের ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়া।

 

তবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বা প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলাদা। এটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও কার্যক্রমের বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

 

দিল্লির ইতিবাচক বার্তায় ফিরতে পারে আস্থা

 

বিশ্লেষকদের মতে, নয়াদিল্লি যদি শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়ে ইতিবাচক ও স্পষ্ট বার্তা দেয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

 

অর্থনৈতিক সম্পর্কেও রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরতা

 

রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক পারস্পরিক নির্ভরতা সহজে কমার নয়। দুই দেশের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ালেও দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।

 

শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকই হতে পারে সমাধানের পথ

 

রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশের জাতীয় স্বার্থের কারণে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

তাঁদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে সৃষ্ট কূটনৈতিক জট নিরসন, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ পুনরায় জোরদার করাই হতে পারে অচলাবস্থা কাটানোর বাস্তবসম্মত পথ।

 

তারারদেশ নিউজ




হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পকে ইরানের সেনাপ্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি

ঢাকা

রোববার

১৬ আগস্ট ২০২৬ ইং

১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক| তারারদেশ নিউজ:

 

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, ইরানকে হুমকি দেওয়া হলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত দেশটির সামরিক বাহিনী।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ডে পরিণত করার মন্তব্যকে ‘বিপজ্জনক রসিকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আমির হাতামি।

 

ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্কবার্তা

 

এক বক্তব্যে ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, ইরানকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা গুরুতর ভুল। তাঁর ভাষ্য, দেশটির সামরিক বাহিনী প্রয়োজনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

 

আমির হাতামি আরও দাবি করেন, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না। ইরান এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না বলেও জানান তিনি।

 

হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে সেখানে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ ছাড়া অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারছে না।

 

পাল্টাপাল্টি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

 

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরবিরোধী দাবি করে আসছে। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে দেশটির বাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

 

এর আগে ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ডে পরিণত করার বক্তব্যের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছিলেন, কেবল ঘোষণা, সামরিক শক্তি বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।

 

হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথের ভবিষ্যৎ নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

তারারদেশ নিউজ




ইরানের হামলার আশঙ্কায় গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প

ঢাকা

বুধবার

১২ আগস্ট ২০২৬ ইং

২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গত মাসে তুরস্কে অবস্থানকালে গোপনে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত যে বিমানে তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন, সেটিই হামলার জন্য তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই।

 

বুধবার ট্রাম্প জানান, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর ধারণা, হামলাকারীরা প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানকেই সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করত।

 

খাবারের ট্রাকের আড়ালে বিমান বদল

 

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে প্রথমে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠেন ট্রাম্প। পরে নিরাপত্তার কারণে নেওয়া হয় ব্যতিক্রমী একটি ব্যবস্থা।

 

ক্যাটারিং বা খাবার সরবরাহকারী একটি ট্রাককে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্পকে ওই বিমান থেকে নামিয়ে অন্য একটি সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা আগের বিমানেই থেকে যান।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি পাওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই গোপন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় হোয়াইট হাউস ঘটনাটি প্রকাশ্যে জানায়নি।

 

বিমান পরিবর্তনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই তিনি নির্ভর করেন। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট কোন বিমানে রয়েছেন তা হামলাকারীরা জানতে পারলে সেই বিমানটিই সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।

 

ট্রাম্প বলেন, তিনি সাধারণত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করেন এবং এ ধরনের হুমকি নিয়ে তিনি খুব বেশি তথ্য জানার চেষ্টা করেন না। তাঁর দাবি, নিয়মিতই বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসে।

 

গোপন তথ্য প্রকাশের পর আলোচনা

 

ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের ঘটনা সোমবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রকাশ করার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।

 

এরপর প্রশ্ন ওঠে, প্রেসিডেন্টকে একটি বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের একই বিমানে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা নিরাপদ ছিল।

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে খাবার সরবরাহের ট্রাক ব্যবহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের ব্যঙ্গ ও মিম ছড়িয়ে পড়ে।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

তারারদেশ নিউজ