সাইবার ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট
ঢাকা
বৃহস্পতিবার
২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং
৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাজ্জাদ সদয় | তারারদেশ নিউজ:
প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানও জরুরি নিরাপত্তাজনিত সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঝুঁকিতে থাকতে পারে সার্ভার ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা। একই কারণে পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল সেবাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
সব ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে নয়
পিএইচপি ব্যবহার করা সব ওয়েবসাইটই যে এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে, তা নয়। ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত পিএইচপির সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।
সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো এই নির্দিষ্ট ত্রুটির কারণে সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। তবে অন্যান্য সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত প্রযুক্তি যাচাই করা হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তায় সতর্কতা জারি
সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার ও সংস্করণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং অননুমোদিত সংযোগ পর্যবেক্ষণের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট পুনরায় চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তারারদেশ নিউজ


