মজলুমদের হাতেই গুমের পথ সুগম করা আইন হচ্ছে: মীর আহমাদ
ঢাকা
শনিবার
২৯ আগস্ট ২০২৬ ইং
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমদের মিলনমেলা’ আখ্যা দিয়ে প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত দুই আইনের কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। তাঁর অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের হাত দিয়েই এমন আইন পাস হতে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে গুমের পথ আরও সহজ করে দিতে পারে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্য, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন আইনে কমিশনের ক্ষমতা কমানোর অভিযোগ
মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতিসংঘের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যুক্ত হয়ে এবং ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে যে আইনগুলো করা হয়েছিল, সেগুলো গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ তৈরি করেছিল।
তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার সেই আইনের পরিবর্তে যে নতুন আইন আনছে, তাতে গুম-সংক্রান্ত কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী আরও শক্তিশালী আইন করার আশ্বাস দিলেও প্রস্তাবিত আইনে দুটি কমিশনকে কার্যত ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করা হয়েছে।
অভিযোগ করতেও ভয় পাবেন ভুক্তভোগীরা
প্রস্তাবিত আইনে কোনো ভুক্তভোগী গুমের অভিযোগ করার পর আদালতে সেই অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে তাঁর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মীর আহমাদ।
তাঁর মতে, এমন বিধান থাকলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ভবিষ্যতে অভিযোগ করতেই ভয় পাবে। এতে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের সুযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের সুযোগ না থাকলে প্রস্তাবিত আইন বাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহির বাইরে থাকার বার্তা দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, সরকারের বাইরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ না থাকলে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
গুমের ভুক্তভোগী মীর আহমাদ
মীর আহমাদ বিন কাসেম নিজেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হয়েছিলেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তদন্ত ও বিচারব্যবস্থা অবশ্যই স্বাধীন ও কার্যকর হতে হবে।
আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সাবেক গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং সাবেক কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিসসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
তারারদেশ নিউজ


