গুম ও মানবাধিকার আইনে বিতর্কের আভাস, কাল বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

0
IMG_20260822_202250
image_pdfimage_print

ঢাকা

বুধবার

২৬ আগস্ট ২০২৬ ইং

১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | তারারদেশ নিউজ:

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। বিকেল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন ও পাস হতে পারে। এসব খসড়া আইন নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় অধিবেশনে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অধিবেশনটি প্রায় ১০ থেকে ১১ কার্যদিবস চলতে পারে। তবে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের চূড়ান্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।

 

আলোচনার কেন্দ্রে গুম প্রতিরোধ আইন

 

গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। একইভাবে ১০ আগস্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়াও অনুমোদন করা হয়।

 

দুটি আইন নিয়েই মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বলেছে, খসড়ায় ইতিবাচক কিছু বিষয় থাকলেও মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদ্বেগের জায়গা বহাল রয়েছে।

 

গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে রাখার বিষয়টিও সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত একই বাহিনীর আওতায় থাকলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

 

বিরোধীদের আপত্তির সম্ভাবনা

 

জাতীয় নাগরিক পার্টি ইতিমধ্যে গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। দলটির অভিযোগ, প্রস্তাবিত কাঠামো গুমের ঘটনায় দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করতে পারে।

 

ফলে বিল দুটি সংসদে উত্থাপন ও পাসের পর্যায়ে গেলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জোরালো আপত্তি ও বিতর্ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আরও কয়েকটি বিল আসছে

 

এখন পর্যন্ত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনসহ তিনটি বিল সংসদ সচিবালয়ে জমা পড়েছে। আরও কয়েকটি বিল অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য আসতে পারে।

 

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উত্থাপিত না হওয়ায় সেগুলো কার্যকারিতা হারায়। এসবের কয়েকটি নতুন করে যাচাই-বাছাই করে বিল আকারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারসংকট নিয়েও উত্তাপ

 

আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং সারসংকট নিয়েও সংসদে আলোচনা হতে পারে। এসব বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

গঠন করা হবে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি

 

এই অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন।

 

জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি ৩৫টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি এই অধিবেশনে গঠনের কথা রয়েছে।

 

এ ছাড়া পরিকল্পনা ও আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত দুটি স্থায়ী কমিটিও পুনর্গঠন করতে হবে। এসব কমিটির আগের সভাপতিরা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় নতুন সভাপতি নির্বাচন প্রয়োজন হবে।

 

আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ছাড়াও এই অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *