২৫৫ ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

0
DBN fakhrul
image_pdfimage_print

ঢাকা

বৃহস্পতিবার

২০ আগস্ট ২০২৬ ইং

৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

 

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ভোটগ্রহণ শেষে বিজয়ী মির্জা ফখরুলকে গোলাপ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

৩৪৩ সংসদ সদস্যের ভোট

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

 

শপথ শুক্রবার

 

নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

 

এর মধ্য দিয়ে ২৪ জুলাই পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল।

 

তৃণমূল রাজনীতি থেকে বঙ্গভবন

 

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি ছিলেন।

 

শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে যুক্ত হলেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণকালীন রাজনীতিতে ফিরে আসেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর নেতৃত্ব আরও দৃশ্যমান হয়।

 

১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর ধাপে ধাপে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন মির্জা ফখরুল। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

 

বিএনপির দীর্ঘদিনের মুখ

 

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সামনের সারিতে ছিলেন মির্জা ফখরুল। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

 

২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খালেদা জিয়ার সরকারের কৃষি ও বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *