ইরানের হামলার আশঙ্কায় গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প
ঢাকা
বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬ ইং
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:
ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গত মাসে তুরস্কে অবস্থানকালে গোপনে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত যে বিমানে তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন, সেটিই হামলার জন্য তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই।
বুধবার ট্রাম্প জানান, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর ধারণা, হামলাকারীরা প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানকেই সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করত।
খাবারের ট্রাকের আড়ালে বিমান বদল
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে প্রথমে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠেন ট্রাম্প। পরে নিরাপত্তার কারণে নেওয়া হয় ব্যতিক্রমী একটি ব্যবস্থা।
ক্যাটারিং বা খাবার সরবরাহকারী একটি ট্রাককে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্পকে ওই বিমান থেকে নামিয়ে অন্য একটি সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা আগের বিমানেই থেকে যান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি পাওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই গোপন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় হোয়াইট হাউস ঘটনাটি প্রকাশ্যে জানায়নি।
বিমান পরিবর্তনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই তিনি নির্ভর করেন। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট কোন বিমানে রয়েছেন তা হামলাকারীরা জানতে পারলে সেই বিমানটিই সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, তিনি সাধারণত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করেন এবং এ ধরনের হুমকি নিয়ে তিনি খুব বেশি তথ্য জানার চেষ্টা করেন না। তাঁর দাবি, নিয়মিতই বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসে।
গোপন তথ্য প্রকাশের পর আলোচনা
ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের ঘটনা সোমবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রকাশ করার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।
এরপর প্রশ্ন ওঠে, প্রেসিডেন্টকে একটি বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের একই বিমানে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা নিরাপদ ছিল।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে খাবার সরবরাহের ট্রাক ব্যবহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের ব্যঙ্গ ও মিম ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র: রয়টার্স
তারারদেশ নিউজ


